অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা সোনারচর
22 December, 2016

প্রকৃতির এক অপরূপ সৃষ্টি পর্যটনের সম্ভাবনাময় সোনারচর। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বঙ্গোপসাগরের একেবারে কোল ঘেঁষে এর অবস্থান। এখানে সবুজ প্রকৃতি, বন্যপ্রাণী, পাখির ঝাঁক, জেলেদের উচ্ছ্বাস আর সাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশি মিলে নয়নাভিরাম এক সৌন্দর্যের জগৎ সৃষ্টি হয়েছে। সাগরে যখন জোয়ারের পানি উথলে ওঠে তখন অনন্য এক সৌন্দর্য বিকশিত হয় সোনারচরে। তটরেখায় আছড়ে পড়ে ছোট-বড় ঢেউ। প্রায় দশ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং পাঁচ কিলোমিটার প্রস্থের দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতের যে কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার রয়েছে সুযোগ। ঢেউয়ের তালে তালে দুলতে থাকা জেলে নৌকার বহর। সাগরে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য। বিশেষ করে প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে এর আবেদন অন্য রকমের।

যে কারণে নাম হলো সোনারচর

সোনারচরে সোনা নেই, আছে সোনা রঙের বালি। সকাল কিংবা শেষ বিকেলের রোদের আলো যখন সোনারচরের বেলেভূমিতে পরে, তখন দূর থেকে পুরো দ্বীপটাকে সোনালি রঙের থালার মতো মনে হয়। বালুর ওপরে সূর্যের আলোয় চোখের দৃষ্টি চিক চিক করে। মনে হবে যেন কাঁচা সোনার প্রলেপ দেয়া হয়েছে দ্বীপটিতে। ধারণা করা হয়, বিশেষ এ বৈশিষ্ট্যের কারণেই দ্বীপটির নাম রাখা হয়েছে সোনারচর।

যেভাবে যাবেন

সোনারচরে যাতায়াতের একাধিক পথ রয়েছে। সন্ধ্যা ৬ টায় ঢাকা সদরঘাট থেকে একটি লঞ্চ রাঙ্গাবালীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। কোকো-৫, জাহিদ-৪, জাহিদ-৫ ইত্যাদি আসে। ওইসব লঞ্চে ডেকের ভাড়া ৩৫০ টাকা। সিঙ্গেল কেবিন ভাড়া ৬০০ টাকা এবং ডাবল কেবিন ভাড়া ৯০০-১২০০ টাকা। এছাড়া ভিআইপি কেবিনও রয়েছে লঞ্চে। ঢাকা সন্ধ্যা ৬ টায় লঞ্চে যাত্রা শুরু করলে পরদিন দুপুর ১ টা বা ২ টায় রাঙ্গাবালীর কোড়ালিয়া লঞ্চঘাট পৌছে যাবেন। ওইখান থেকে মটর সাইকেল যোগে রাঙ্গাবালী। স্পিড-বোট নিয়ে যাওয়া যেতে পারে সোনারচরে। রাঙ্গাবালী উপজেলা সদর থেকে স্পিড বোটে সোনারচরে যেতে সময় লাগে মাত্র এক থেকে এক ঘণ্টা। আবার সাগরকন্যা কুয়াকাটা থেকেও সোনারচরে যাওয়া যেতে পারে। যেতে হবে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে। ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে সময় লাগবে ঘণ্টা দুয়েক।

যা দেখবেন

সোনারচরে রয়েছে প্রায় দশ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং পাঁচ কিলোমিটার প্রস্থের বিশাল সমুদ্র সৈকত। সৈকতের যে কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার রয়েছে অপূর্ব সুযোগ। এখানে রয়েছে পাঁচ হাজার একরের বিশাল বনভূমি। বন-বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, সুন্দরবনের পরেই আয়তনের দিক থেকে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। সোনারচরের বিশাল বনভূমির মধ্যে ছড়িয়ে আছে দেড় শতাধিক ছোট-বড় খাল। ছোট্ট নৌকা বা ইঞ্জিন চালিত ট্রলার নিয়ে এসব খালে ভেসে ভেসে দেখা যায় বিচিত্র সব পাখপাখালির বিচরণ। জানা যায়, বহু হরিণ আর বানর রয়েছে সোনারচরে। তবে ঘন অরণ্যের কারণে এগুলোর দেখা মেলে খুব কম। বনাঞ্চলের কাছাকাছি গেলে হয়তো সহজেই চোখে পড়বে বুনো মোষ। দেখা মিলবে বুনো গরুর। এসব গরু-মোষ দলছুট হয়ে বুনো হিংস্র পশুতে পরিণত হয়েছে। এর বাইরে এখানে রয়েছে শূকর, বানর, মেছো-বাঘসহ আরও বিচিত্র সব বন্য প্রাণী। মনমুগ্ধকর সৌন্দর্যের নানা রকম প্রাকৃতিক আয়োজন রয়েছে এ দ্বীপটিতে। শীতের সময় বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির অভয়ারণ্যে পরিণত হয় পুরো দ্বীপ ও পার্শ্ববর্তী এলাকা। সোনারচর বনাঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ম্যানগ্রোভের পাশাপাশি নানান জাতের গাছপালার বাগান করা হয়েছে। যা কারও দৃষ্টি কাড়বে। রয়েছে সমুদ্র উপভোগের সুযোগ। ঢেউয়ের তালে সমুদ্র স্নানেও রয়েছে ভিন্ন আমেজ। এখানে গেলে দেখা মিলবে হাজারো জেলের। সাগর থেকে তুলে আনা টাটকা মাছের স্বাদও নেয়া যাবে এখান থেকে। শুঁটকি পল্লীতেও ঘুরে বেড়ানো যাবে। দেখা যাবে লালকাঁকড়া যেন চাদর বিছিয়ে রেখেছে। মোট কথা একদিকে দূর আকাশ বিস্তীর্ণ সাগর এবং বনাঞ্চল। দু’টোরই স্বাদ মিলবে সোনারচরে। সে সঙ্গে বন্যপ্রাণী আর পাখির কলরবে প্রকৃতির সৌন্দর্য পিপাসুরা সোনার চরের রূপে মুগ্ধ হবেনই।

যেখানে থাকবেন

সোনারচরে রাত কাটানোর মতো নিরাপদ আরামদায়ক কোন ব্যবস্থা এখনও গড়ে ওঠেনি। তবে সোনারচরে পর্যটকদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ছোট্ট তিন কক্ষের একটি বাংলো। ইচ্ছে করলে রাতে সেখানে থেকে যেতে পারেন। এছাড়া, রয়েছে বনবিভাগের ক্যাম্প। সেখানে কিছুটা কষ্ট হলেও রয়েছে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা। চাইলে সূর্যাস্ত দেখার পর ইঞ্জিনচালিত নৌকা বা ট্রলারে ৩০ মিনিটে চলে যেতে পারেন চরমোন্তাজে। সেখানে রয়েছে বন বিভাগ, বেসরকারি সংস্থা স্যাপ বাংলাদেশ ও মহিলা উন্নয়ন সমিতির ব্যবস্থাপনায় রাত যাপনের মতো মোটামুটি সুবিধা সম্পন্ন বাংলো। রয়েছে হোটেল। রাঙ্গাবালীতে শুধু সোনারচরই নয় রয়েছে মৌডুবী, জাহাজমারা, তুফানিয়া ও শিপচরসহ আরো কয়েকটি দ্বীপের সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে। এর সব দ্বীপই সাগরের বুক চিরে জেগে ওঠা। মোট কথা দু’ তিনদিন ঘুরে বেড়িয়ে সোনারচরসহ আশপাশের দ্বীপগুলো দেখে ফিরতে পারেন।

সরকারী উদ্যোগ-আয়োজন - সোনারচরকে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্রে রূপ দেয়ার উদ্দেশ্যে সরকারী পর্যায়ে নেয়া হয়েছে নানামুখী উদ্যোগ-আয়োজন। সোনারচরকে এরই মধ্যে ‘অভয়ারণ্য’ ঘোষণা করা হয়েছে। নানা প্রজাতির জীবজন্তুর আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে সোনারচর হবে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র।

Don’t wait any longer. Contact us!

+880 1611-289557

24/7 Dedicated customer support