বাংলাদেশের স্বর্গ নিলাদ্রী (কোয়ারি লেক) ও টাঙ্গুর হাওড়
22 December, 2016

অনেকদিন ধরে সুনামগঞ্জ নিয়ে অনেক পোষ্ট দেখছিলাম ট্রাভেল অফ বাংলাদেশ ও ভ্রমন এর পেইজে। তখনই মনে হয় কবে যাব বাংলার বুকের এই স্বর্গে। ঠিক করে ফেল্লাম যাবোই যাবো যা আছে কপালে। একদিন ঠিক করে ফেল্লাম আজ কালের ভিতরে যাব। খোজ নেই কোন ইভেন্ট আছে কি না।sunamgonjওয়াচ টাওয়ার থেকে টাঙ্গুর হাওড়

আমি আর আমার বন্ধু অনেক খুজাখুজির পর পেয়ে যাই একটি ইভেন্ট এর লিংক। ইভেন্ট এর শেষ দিন পার হয়েছে একদিন আগেই। আমি নক করলাম সেই ইভেন্ট এর হোস্ট কে। আমার পক্ষেই সব যাচ্ছিল তখন। ভাইকে কিছুক্ষন বলার পর সে রাজি হয়ে গেল। বললো আমাকে এখনি জানান। আমি বললাম ভাই আমাকে একটু টাইম দেন। আমার অফিস ভার্সিটি সব জায়গা থেকে ছুটি নিতে হবে। ভাই বললো আপনার জন্য শুধু কাল সকাল পর্যন্ত সময় দিতে পারি। আমি সকালে গেলাম অফিসে একটু কষ্ট হল কিন্তু ভার্সিটি তো আর ছুটি নেয়া যায় না। দিলাম ভার্সিটি ফাকি।

রওনা দিলাম ২৯ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ এর উদ্দেশ্যে। সকালে আমি নেমেই উড়ছিলাম আনন্দে। লেগুনায় যখন তাহেরপুর যাচ্ছিলাম আমি পুরা পথটাই ঝুলে ঝুলে গিয়েছি। চুলে লাগছিল মাতাল হাওয়া; আর কিছুক্ষন পর পর হাওড় আর দূরে এক রুপবতির মত ডাকছে বিশাল পাহাড়। পৌছালাম তাহেরপুর। হাল্কা কিছু খেয়ে উঠেগেলাম ট্রলারে।sunamgonjsunamgonjআমাদের মাঝি

চারপাশে পানির বিশাল জলরাশি আর দূরে সেই পাহাড়। ধীরে ধীরে কাছে টেনে নিচ্ছে। কিছু ছবি তোলার পর মনে হল হাওড়ের যে সুন্দর্য তার এক বিন্দু পরিমানও আমি ক্যমেরায় করে নিয়ে যেতে পারব না। বন্ধ করে রেখে দিলাম। আর মনের সুখে গান ধরলাম জলের গানের এমন যদি হত আমি পাখির মত.........। এরপর হাওড়ে গোসল সারলাম। সারাদিন এইখানে সুনামগঞ্জ নিয়ে যেমন গল্প পড়েছি এমনই ছিল। তখনও জানতাম না সৃষ্টিকর্তা আমার জন্য প্রতিবারের জন্য আলাদা করে এইবারও সারপ্রাইজ রেখেছে।sunamgonj

sunamgonjপ্রকৃতির লেয়ার

বিকেল ৪ টার দিকে রওনা হই আমার ভালোবাসা নিলাদ্রীর (কোয়ারি লেক) দিকে। আমার নদীর মাঝখানে বসে, সমুদ্রে পানিতে ট্রলারে বসে সূর্য অস্ত দেখা হয়েছে কিন্তু হাওড়ে দেখা হয় নাই। এবার এই আশাটাও মিটলো, আলহামদুলিল্লাহ্‌।sunamgonj

সন্ধ্যার প্রথম প্রহরsunamgonjহাওড়ের বুকে সন্ধ্যা

পৌঁছাতে পৌঁছাতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। সে এমন রুপ যা বলে প্রকাশ করা যাবে না। দৌড়ে উঠতে গেলাম পাশে টিলার মত উচু জায়গায়। কে জানত ওইখানে কাঁদা আছে। গেলাম ব্যাগ ক্যামেরা নিয়ে পড়ে, একটু মন খারাপ হল। রাগ করে নিচেই নিলাদ্রীর পাড়ে বসে রইলাম।sunamgonj

সময় এসেছে আমার সারপ্রাইজের। দেখলাম আকাশ যতই অন্ধকার হচ্ছে তারা গুলো ততই পরিষ্কার হচ্ছে। কিছু স্লোশাটারের ছবি তুললাম।sunamgonj

sunamgonj

বাইকগুলো সুনামগঞ্জ থেকে টেকেরঘাট ফিরছেsunamgonjযেখানে বসে ছিলাম তার সামনের দিকের দৃশ্য

একঘণ্টার মত বসে থাকলাম ওইখানেই একবারের জন্যও পিছনে তাকাই নাই, রাগে, কাদায় পড়েছি বলে। কারন তাকালেই দেখব সবাই উপরে উঠে উপভোগ করছে আর আমি নিচে বসে আছি।

এর পর যখন সবাই নেমে গেল আমি যাচ্ছি তাদের সাথে জয়েন করতে। আমার চোখটা শুধু আকাশের দিকে গেল, সুবহানআল্লাহ্‌, দেখি পুরো আকাশ জুড়ে তারা আর কিছু স্থান জুড়ে ছায়াপথ এর মত ধুলো আর আলোর মত দেখা যাচ্ছে মিল্কিওয়ে। আমার মাথা খারাপ হয়ে গেল। হাটছি আর দেখছি। এক ভাই ডেকে বললো কি ভাই ছবি তুলবেন না এইটার। আমি বললাম হ্যা, তুলতেই যে হবে। সবাই চলে গেল। আমি সুকর্ণ ভাই আর আশিক থেকে গেলাম। এর আগে রাতের তারার অনেক ছবি তুলেছি বরিশালের নদীর পাড়ে বসে। এখানেও তুলে ফেললাম কিছু অসাধারন ছবি তিনজন মিলে।sunamgonj

নিলাদ্রীর পাড়

এবার ফেরার পালা। আমরা ট্রলারে গেলাম। শুয়ে পড়লাম ট্রলারের ছাদের উপর, তারা দেখার জন্য। আমাদের মাঝি সেই প্রেমিক পুরুষ ছিল। সে সারা পথে ফোনে কারসাথে কথা বলছিল। আমাদের দুইটা ট্রলার ছিল। একটা আগেই ছেড়ে গেছে আর বাকিটায় আমরা। মাঝি প্রেমের আবেগে ট্রলার উঠিয়ে দিল চরে। আটকা পরে রইলাম একঘন্টা। যা হয় ভালোর জন্যই হয়।sunamgonjট্রলারে কার্ড খেলা চলে :P

আমি শুয়ে আছি এক বাড়ির চালের উপর আর উপরে বিশাল তারার বাগান। আবার সেই ঘর তার জলের তালে তালে দুলে চলছে। স্বর্গীয় সুখ। আমরা রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লাম ট্রলারেই। ট্রলার ছিল মাঝির বাড়ির সামনেই। মনে মনে আশা করছিলাম একটু যদি হাওড়ের মাঝখানে নিয়া রাখতো। রাতে ওইখানে থাকতে পারতাম। রাত তখন ১১:৩০। এক লোক আসল কোন কথা নাই ট্রলার ছেড়ে দিল। তার বাড়ির পিছনে ফাঁকা জায়গায় রেখে দিল, বলতে হাওরের মাঝ খানেই।

আমি শুয়ে রইলাম ওই চালেই। তারার সাথে গল্প করছি আর তাকিয়ে আছি। রাত তখন ২:৩০ সবাই ঘুমে আমার চোখে ঘুম নাই। আশিক ও জেগে আছে মনে হয়। দূর আকাশে পাহাড়ের দিকে প্রচুর পরিমানের বিদ্যুত চমকাচ্ছে। আর এদিকে তারা গুলো আকাশে। পানিতে তার দোলন দেয়া প্রতিফলন। সব মিলিয়ে হারিয়ে গেলাম আমি। মনে হচ্ছিল ওই তারাকে ভিজানো পানিতেই গোসল করে নেই। নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।sunamgonjসকাল হবার সাথে সাথে হাওড়ের সবাই ব্যস্ত

সকালে উঠে আবার গেলাম টেকেরঘাট নিলাদ্রীর পাড়ে, বারিক্কাটিলা, যাদুকাটা নদী। আমরা সবাই এবার নিলাম সাথে মটরবাইক। আমার লাইফের শ্রেষ্ঠ বাইক রাইড।sunamgonjsunamgonjsunamgonjনিলাদ্রী (কোয়ারী লেক)sunamgonjবারিক্কা টিলা থেকে যাদুকাটা নদী

আমি ভুলব না এই ট্যুরের কথা। মৃত্যুর পরের জীবনে গিয়ে সবাইকে গল্প শুনাব এই ট্যুরের। আল্লাহ্‌ এর সৃষ্টির কথা। আমি মরে গেলেও বারবার এই জায়গায় যেতে চাই এবং যাব।

বি:দ্র: আমার তোলা ছবি গুলো এইখানে আপ্লোড করে রেখেছি। চাইলে দেখতে পারেন।

Don’t wait any longer. Contact us!

+880 1611-289557

24/7 Dedicated customer support